| বঙ্গাব্দ

ভোটার হলেন তারেক রহমান | ১৭ বছর পর এনআইডি নিবন্ধন | ২০২৫ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 2914229 বার পঠিত
ভোটার হলেন তারেক রহমান | ১৭ বছর পর এনআইডি নিবন্ধন | ২০২৫ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন: ১৭ বছর পর এনআইডি নিবন্ধন ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হলো ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর আজ ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে গিয়ে তিনি তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট, চোখের আইরিশ ও স্বাক্ষর প্রদান করেন।

ইসি ভবনে তারেক রহমানের কর্মব্যস্ত সকাল শনিবার সকালে তারেক রহমান প্রথমে শহীদ ওসমান হাদি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে পৌঁছান। সেখানে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে এনআইডির যাবতীয় তথ্য প্রদান করেন। তাঁর সাথে তাঁর মেয়ে জায়মা রহমানও ভোটার হওয়ার আবেদন সম্পন্ন করেন।

এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, "তারেক রহমান ও জায়মা রহমান অনলাইনে আগেই আবেদন করেছিলেন। আজ তাঁরা বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র জেনারেট হবে।" উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করায় ভোটার হতে পারেননি।


১৯৫০ থেকে ২০২৫: রাজনৈতিক বিবর্তন ও তারেক রহমানের যাত্রা

তারেক রহমানের এই এনআইডি নিবন্ধন কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের সাত দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫৪-এর জয়গান: ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে চূড়ান্ত রূপ পায়। এই জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ইতিহাসই পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের 'জাতীয়তাবাদী' দর্শনের প্রেরণা জোগায়।

  • ১৯৭০ ও ১৯৭১-এর উত্তাল সময়: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির বিজয় এবং ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট। তারেক রহমান শৈশবে ১৯৭১ সালে মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বন্দী অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

  • ১৯৭৮ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তারেক রহমান ১৯৯১ সাল থেকে মায়ের সাথে রাজনৈতিক প্রচারণায় যুক্ত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শুরু করেন।

  • ২০০৮ থেকে ২০২৪: নির্বাসন ও জুলাই বিপ্লব: ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে লন্ডন যাওয়ার পর টানা ১৭ বছর দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।

  • ২০২৫-এর বর্তমান চিত্র: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বীরের বেশে দেশে ফেরার পর ২৭ ডিসেম্বর এনআইডি নিবন্ধনের মাধ্যমে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত আইনি বৈধতা নিশ্চিত করলেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই দ্রুত ভোটার হওয়া এবং এনআইডি সংগ্রহ ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশ নিচ্ছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান এবং কুমিল্লা-৩ আসনে আসিফ মাহমুদের মতো তরুণ নেতাদের নির্বাচনী দৌড়ে শামিল হওয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ২০২৫-এর শেষ প্রান্তের এই রাজনীতি এক নতুন বাংলাদেশের বার্তা দিচ্ছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিশেষ বুলেটিন, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. প্রথম আলো ও যুগান্তর অনলাইন সংস্করণ, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ৩. বিএনপি মিডিয়া সেল ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency